VIVEKANANDA COACHING CENTRE
CLASS:- IX
GEOGRAPHY
1.পুঞ্জিত ক্ষয়কে ক্ষয়ীভবন বলা যায় না কেন?
উ:- পুঞ্জিত ক্ষয়কে ক্ষয়ীভবন বলা যায় না কারণ পুঞ্জিত ক্ষয় একটি স্থানান্তর প্রক্রিয়া যেখানে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে শিলা ঢাল বরাবর স্থানান্তরিত হয়, কিন্তু ক্ষয়ীভবন হলো স্থানান্তর ও অপসারণ—অর্থাৎ শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হয় এবং নতুন ভূমিরূপ তৈরি করে। ক্ষয়ীভবনের মূল কাজ হলো অপসারণ, যেখানে পুঞ্জিত ক্ষয় মূলত মাধ্যাকর্ষণজনিত স্থানান্তর প্রক্রিয়া। কারন -
1. ক্ষয়ীভবন হল একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়া, যা শিলা বা মাটিকে বহন করে এবং অপসারণ করে। অন্যদিকে, পুঞ্জিত ক্ষয় বিশেষভাবে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে ঢাল বরাবর পদার্থের স্থানান্তরকে বোঝায়।
2. ক্ষয়ীভবনের মধ্যে বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি যেমন জল, বাতাস ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকে। পুঞ্জিত ক্ষয় একটি নির্দিষ্ট ঘটনা, যেখানে আবহবিকারের ফলে আলগা হয়ে যাওয়া পদার্থ মাধ্যাকর্ষণের টানে নেমে আসে।
2. ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্রের বৈশিষ্ট্য লেখ।
উ:- ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি একটি নির্দিষ্ট স্কেলে আঁকা হয় এবং এতে ভূ-প্রকৃতি, ভূমিরূপ, জলধারা, স্বাভাবিক উদ্ভিদ, এবং সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য (যেমন - রাস্তা, বসতি) বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়।
● ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্রের বৈশিষ্ট্য:-
1. নির্দিষ্ট স্কেল: এই মানচিত্রগুলি একটি নির্দিষ্ট স্কেল অনুযায়ী তৈরি করা হয়।
2. ভূ-প্রকৃতি ও ভূমিরূপ: এতে পাহাড়, উপত্যকা, সমভূমি ইত্যাদি ভূমিরূপের চিত্র থাকে।
3. অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ: প্রতিটি মানচিত্রে অক্ষাংশগত এবং দ্রাঘিমাংশগত বিস্তার সুনির্দিষ্টভাবে দেওয়া থাকে।
4. মানচিত্র নম্বর: প্রতিটি মানচিত্রের উপরের ডানদিকে একটি নির্দিষ্ট নম্বর থাকে।
3. হিমালয় অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ কেন ?
উ:- হিমালয় অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ কারণ এটি ভারতীয় এবং ইউরেশিয়ান প্লেটের সীমানায় অবস্থিত, যেখানে এই দুটি প্লেটের মধ্যে অবিরাম সংঘর্ষ হচ্ছে। এই সংঘর্ষের ফলে ভূত্বকে চাপ সৃষ্টি হয়, যা শেষ পর্যন্ত ভূমিকম্পের আকারে নির্গত হয়।
● হিমালয় অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ার কারণ:-
1. ভূত্বকে চাপ সৃষ্টি: এই সংঘর্ষের ফলে ভূত্বকে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়, যা টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণ।
2. ভূমিকম্পের সৃষ্টি: এই চাপ যখন কোনো এক সময় মুক্তি পায়, তখন ভূত্বকে কম্পন সৃষ্টি হয়, যা আমরা ভূমিকম্প হিসেবে অনুভব করি।
3. শিলার উত্থান: প্লেটের সঞ্চালনের ফলে এখানে ভাঁজযুক্ত পাললিক শিলাগুলির ক্রমাগত উত্থান ঘটে, যা ভূমিকম্পের একটি অন্যতম কারণ।
4. নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর আবর্তন বেগ বেশি কেন ?
উ:- নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর আবর্তন বেগ বেশি কারণ এই রেখা বরাবর পৃথিবীর পরিধি সবচেয়ে বেশি। যেহেতু পৃথিবীর সব অংশ একই সময়ে (প্রায় ২৪ ঘণ্টায়) একবার ঘোরে, তাই যে অংশের পরিধি সবচেয়ে বড়, সেই অংশকে সেই সময়ে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। এই কারণে নিরক্ষরেখার আবর্তন বেগ সর্বোচ্চ, যা মেরু অঞ্চলে প্রায় শূন্যের কাছাকাছি চলে আসে ।
1. বৃহত্তম পরিধি: নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর পরিধি সবচেয়ে বেশি।
2. সমান আবর্তন সময়: পৃথিবীর সব অঞ্চল ২৪ ঘণ্টায় একবার আবর্তন করে।
3. সুষম গতি: নিরক্ষরেখার মতো বড় পরিধিকে কম সময়ে অতিক্রম করতে হলে বেগও বেশি হতে হয়।
5.বিপর্যয় মোকাবিলায় শিক্ষার্থীর ভূমিকা লেখ ।
উ:- বিপর্যয় মোকাবিলায় শিক্ষার্থীর ভূমিকা :-
1. বিপর্যয় মোকাবিলায় শিক্ষার্থীরা দুর্যোগ প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি, এবং জরুরি পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
2. তারা নিজেদের এবং অন্যদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে, যেমন প্রাথমিক চিকিৎসা এবং আপৎকালীন মহড়ায় অংশগ্রহণ করা।
3. এছাড়াও, তারা দুর্যোগের আগে ও পরে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করতে এবং তাদের মধ্যে সহানুভূতির মানসিকতা তৈরি করতে পারে।
4. পাঠ্যক্রমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিপর্যয় সম্পর্কে জানতে পারে।
5. অন্যদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকতে সাহায্য করতে পারে।
6. বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র ও ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্রের পার্থক্য লেখ ।
বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র
ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্র
এই মানচিত্র ছোট অঞ্চল, যেমন একটি শহর, একটি গ্রাম বা একটি নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে।
এই মানচিত্র বৃহৎ এলাকা, যেমন দেশ, মহাদেশ বা সমগ্র বিশ্ব চিহ্নিত করে।
অনেক বিস্তারিত তথ্য থাকে।
কম বিস্তারিত তথ্য থাকে।
উদাহরণ: মৌজা মানচিত্র, শহরের পরিকল্পনা, নৌচলাচলের চার্ট এবং ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র।
উদাহরণ: দেয়াল মানচিত্র, অ্যাটলাস বা বিশ্ব মানচিত্র।
স্থানীয় পরিকল্পনা, জরিপ এবং বিশদ ভৌগোলিক বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
একটি বৃহৎ অঞ্চলের সামগ্রিক চিত্র প্রদান করে।
7. বিবৃতিমূলক স্কেল ও ভগ্নাংশ সূচক স্কেলের পার্থক্য লেখ।
বিবৃতিমূলক স্কেল
ভগ্নাংশ সূচক স্কেল
এই স্কেল কথায় বা ভাষায় প্রকাশ করা হয়, যেমন: "১ সেমি = ১ কিমি"।
এই স্কেল সংখ্যাসূচক অনুপাতে প্রকাশ করা হয়, যেমন: 1: 100000।
মানচিত্র ও ভূমির দূরত্বে একক (সেমি, ইঞ্চি ইত্যাদি) ব্যবহৃত হয়, যা বিভিন্ন এককে রূপান্তরিত হতে পারে।
মানচিত্র ও ভূমি উভয় ক্ষেত্রেই একই একক ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি একটি অনুপাত।
সহজবোধ্য এবং সরাসরি দূরত্ব পরিমাপ করা যায়।
এটি একটি সর্বজনীন অনুপাত, যা মানচিত্রের আকার পরিবর্তন হলেও একই থাকে।
মানচিত্র ছোট বা বড় করলে স্কেলের পরিবর্তন হয় না।
সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়ার কারণে এটি সহজে বোঝা যায় না এবং রূপান্তর করাও কঠিন হতে পারে।
8. গ্লোব ও মানচিত্রের পার্থক্য লেখ।
গ্লোব
মানচিত্র
গ্লোব হল পৃথিবীর ত্রিমাত্রিক (3D) উপস্থাপনা।
মানচিত্র হল পৃথিবীর দ্বি মাত্রিক (3D) উপস্থাপনা।
গ্লোব পৃথিবীর সঠিক আকার ও আকৃতি দেখায়।
পৃথিবীর আকার ও আকৃতি বিকৃত করতে পারে।
পৃথিবীর সামগ্রিক গঠন, অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, ঘূর্ণন এবং মহাদেশ ও মহাসাগরের অবস্থান বুঝতে সাহায্য করে।
দিকনির্দেশ, নির্দিষ্ট স্থান খুঁজে বের করা এবং একটি এলাকার বিস্তারিত তথ্য জানতে সাহায্য করে।
গ্লোব বহন করা কঠিন।
মানচিত্র বহন করা সহজ।
HISTORY
1. টীকা লেখো : রুশ - জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি
Ans:- জার্মানির শাসক হিটলার এবং রাশিয়ার শাসক স্ট্যালিনের মধ্যে 1939 খ্রিস্টাব্দে রুশ-জার্মান অনাক্রমন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
a) জার্মানির উদ্দেশ্য :হিটলার উপলব্ধি করেন যে পোল্যান্ড আক্রমণ করতে গিয়ে একই সঙ্গে পূর্ব সীমান্তে রাশিয়া এবং পশ্চিম সীমান্তে ইঙ্গ ফরাসি শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হতে পারে। তাই হিটলার আপতত রাশিয়ার সঙ্গে মিত্রতা স্থাপনের দ্বারা পূর্ব সীমান্তে যুদ্ধের সম্ভাবনা দুর করেন । যাতে তিনি পোল্যান্ড আক্রমন করতে পারেন।
b) রাশিয়ার উদ্দেশ্য : সাম্যবাদ - বিরোধী ইঙ্গ - ফরাসি শক্তির সঙ্গে জোট গঠনে ব্যর্থ হয়ে রাশিয়া নিজের নিরাপত্তার প্রয়োজনে জার্মানির সঙ্গে মিত্রতা স্থাপনে আগ্রহী হয় ।
c) চুক্তি স্বাক্ষর : রাশিয়া ও জার্মানির মধ্যে ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে ( ২৩ আগস্ট ) রুশ - জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় । এই চুক্তি স্বাক্ষরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মলোটভ এবং জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিবেনট্রপ ।
d) চুক্তির শর্তাবলি : রুশ - জার্মান অনাক্রমণ চুক্তির দ্বারা স্থির হয় যে , রাশিয়া ও জার্মানি — [ 1 ] শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজেদের মধ্যে বিবাদের মীমাংসা করবে । [ 2 ] পরবর্তী ১০ বছর একে অপরকে আক্রমণ করবে না । [ 3 ] তৃতীয় কোনো শক্তির দ্বারা আক্রান্ত হলে কেউ তৃতীয় পক্ষকে সহায়তা করবে না । [ 4 ] পোল্যান্ডকে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেবে ।
e) চুক্তিভঙ্গ : রাশিয়ার সঙ্গে অনাক্রমণ চুক্তি সত্ত্বেও হিটলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চুক্তি ভঙ্গ করে ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে ( ২২ জুন ) রাশিয়া আক্রমণ করেন ।
2) রোম বার্লিন - টোকিও অক্ষচুক্তি কী?
Ans:- দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে যেসব উগ্র সাম্রাজ্যবাদী একনায়কের আবির্ভাব ঘটে তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ইটালির মুসোলিনি , জার্মানির হিটলার এবং জাপানের তোজো । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ইটালি , জার্মানি ও জাপানের মধ্যে ‘ রোম- বার্লিন - টোকিও অক্ষচুক্তি ' নামে এক মৈত্রীজোট গড়ে ওঠে ।
a) ঘনিষ্টতার উদ্যোগ : জার্মান শক্তিবৃদ্ধিতে আতঙ্কিত হয়ে ইটালির শাসক মুসোলিনি ফ্রান্সের সঙ্গে মিত্রতা গড়ে তোলেন । কিন্তু হিটলার উপলব্ধি করেন যে , জার্মানি ভবিষ্যতে অস্ট্রিয়া দখলের উদ্যোগ নিলে ইটালির সমর্থন তাঁর বিশেষ প্রয়োজন ।মুসোলিনি ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে অ্যাবিসিনিয়া আক্রমণ করলে হিটলার তাঁকে সমর্থন করেন । ফলে মুসোলিনি ও হিটলারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায় ।
b) রোম - বার্লিন অক্ষচুক্তি : মুসোলিনি ও হিটলারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেলে উভয়ের মধ্যে মিত্রতা ( অক্টোবর , ১৯৩৬ খ্রি . ) গড়ে ওঠে । ইটালি ও জার্মানির মধ্যে স্থাপিত এই মিত্রতা ' রোম - বার্লিন অক্ষ্যচুক্তি ' নামে পরিচিত। ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বরে জার্মানি ও জাপানের মধ্যে সাম্যবাদ - বিরোধী অ্যান্টি কমিষ্টার্ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ।
c) রোম - বার্লিন - টোকিও অক্ষচুক্তি:- জার্মানি ও জাপানের অ্যান্টি কমিন্টার্ন জোটে ইটালি যোগ ( ৬ নভেম্বর , ১৯৩৭ ( . ) দিলে ইটালি , জার্মানি ও জাপানের মধ্যে রোম বার্লিন - টোকিও অক্ষচুক্তি মৈত্রীজোট গড়ে ওঠে ।
3) পার্ল হারবারের ঘটনা কী?
উ:- পার্ল হারবার হল প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপে অবস্থিত একটি বন্দর । এখানে আমেরিকা তার নৌঘাঁটি স্থাপন করেছিল ।
a) আমেরিকার উদ্যোগ : জাপানের আগ্রাসী নীতির ফলে আমেরিকা— [ 1 ] জাপানের সঙ্গে পুরোনো বাণিজ্যিক চুক্তিটি বাতিল করে দেয় । [ 2 ] জাপানে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য - সহ বেশ কয়েকটি পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয় । [ 3 ] আমেরিকায় অবস্থিত জাপানি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে । এসব ঘটনায় জাপান ক্ষুব্ধ হয় ।
b) যুদ্ধের সম্ভাবনা : জাপান খনিজ তেলসমৃদ্ধ দক্ষিণ ইন্দোচিন দখল ( ১৯৪১ খ্রি . ) করে নিলে জাপানের সঙ্গে আমেরিকা সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে । এরপর চিন ও ইন্দোচিন থেকে জাপানি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানায় । আমেরিকার এই দাবি জাপান প্রত্যাহার করলে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দেয় ।
c) পার্ল হারবারে আক্রমণ : জাপান ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ৭ ডিসেম্বর সকালে বিশাল নৌবহর ও ৩৩৫ টি যুদ্ধবিমান নিয়ে ভাইস অ্যাডমিরাল নোগুচি - র নেতৃত্বে আমেরিকার নৌঘাঁটি পার্ল হারবারে বোমাবর্ষণ শুরু করে এবং এখানকার মার্কিন নৌঘাঁটি ধ্বংস করে দেয় । এটি পার্ল হারবারের ঘটনা নামে পরিচিত ।
d) ফলাফল :- এই ঘটনার পরদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
4. উড্রো উইলসনের চোদ্দো দফা নীতি (Fourteen points) কী?
Ans:- বিশ্বযুদ্ধের শেষপর্বে ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের ২ এপ্রিল যুদ্ধে যোগদান করে ২৪ তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ঘোষণা করেছিলেন, 'গণতন্ত্রের জন্য বিশ্বের নিরাপত্তা প্রয়োজন। রাজনৈতিক স্বাধীনতার ওপর বিশ্ব শান্তিপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। মানবাধিকার রক্ষা করাই একমাত্র লক্ষ্য।' তাই জার্মানির আত্মসমর্পণ ও প্যারিসের শান্তি সম্মেলনের ১০ মাস আগেই ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের ৮ জানুয়ারি উইলসন বিশ্ব শান্তিপ্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র রক্ষা, ইউরোপের পুনর্গঠন প্রভৃতি উদ্দেশ্যে মার্কিন কংগ্রেসে তাঁর ঐতিহাসিক চোদ্দো দফা নীতি (Fourteen points) ঘোষণা করেন। এতে তিনি বলেন-
1. সমস্ত আন্তর্জাতিক শান্তিচুক্তি প্রকাশ্যে আলোচিত হবে এবং গোপন চুক্তি ব্যবস্থা বর্জিত হবে।
2. যুদ্ধ ও শান্তির সময় দেশের উপকূল ছাড়া সমগ্র সমুদ্রকে উন্মুক্ত রাখা।
3. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বসবাসকারী মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করা।
4. রাশিয়াকে তার হারানো ভূখণ্ড ফিরিয়ে দিয়ে স্বাধীন রূপে গড়ে উঠতে সাহায্য করা।
5. বেলজিয়ামকে স্বাধীন রাষ্ট্ররূপে প্রতিষ্ঠা করা।
6. ইতালির রাজ্যসীমা নির্ধারণ করা।
7. আলসাস-লোরেন ফ্রান্সকে ফিরিয়ে দেওয়া।
8. অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির স্বায়ত্তশাসন দান করা।
9. বলকান অঞ্চলের পুনর্গঠন করা।
10. দার্দেনালিস প্রণালীকে নিরপেক্ষ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে তুরস্কের অমুসলমানদের স্বায়ত্তশাসন দান করা।
11. স্বাধীন ও অখন্ড রাষ্ট্ররূপে পোল্যান্ডের পুনর্গঠন করা
12. বিশ্বের সমস্ত রাষ্ট্রের বিধিনিষেধ রহিত করা।
13. যুদ্ধ প্রকরণ হ্রাস করতে হবে।
14. উপনিবেশে স্বাধীনতা, সীমারেখা ও নিরাপত্তার জন্য অছি পরিষদ জাতীয় একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গড়ে তোলা।
5. টিকা লেখ : হিরোশিমা-নাগাসাকি (Hiroshima-Nagasaki) ঘটনা।
Ans:- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ১৭ জুলাই পোটড্রাম সম্মেলনে জাপান মিত্রশক্তির কাছে আত্মসমর্পণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা না করায় আমেরিকা ক্রুদ্ধ হয়ে জাপানকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এই উদ্দেশ্যে ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ৬ আগস্ট হিরোশিমাতে ইউরেনিয়াম ২৩৮ থেকে তৈরি পারমাণবিক বোমা লিটল বয় নিক্ষেপ করে। এই বোমাটি প্রায় ২০ হাজার টন টি-এন-টি বা বিস্ফোরকের সমান ছিল। এটি ছিল পৃথিবীর প্রথম পরমাণু বোমা নিক্ষেপের ঘটনা। এর পরিণামে হিরোশিমাতে প্রায় ৭৮০০০ মানুষ মারা যায়।
আমেরিকা এই ঘটনার তিন দিন পর ৯ আগস্ট ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ জাপানের নাগাসাকি শহরে প্লুটোনিয়াম থেকে তৈরি 'ফ্যাটম্যান পারমাণবিক বোমাটি নিক্ষেপ করে। এতে প্রায় ৪০০০০ নিরীহ জাপানি নাগরিক মারা যায়। নাগাসাকি শহরটি প্রায় মাটির সঙ্গে মিশে যায়। কারণ নাগাসাকিতে নিক্ষেপিত বোমাটি ছিল প্রায় ২২ হাজার টন টি-এন-টি-র সমতুল্য। এই ঘটনার পর জাপানিদের মনোবল নষ্ট হয়। তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।
6. টিকা লেখ : নতুন অর্থনৈতিক নীতি (New Economic Policy বা NEP)।
Ans:- বলশেভিক বিপ্লবের পর রাশিয়ায় কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিপর্যয় দেখা দিলে বাস্তববাদী প্রেসিডেন্ট লেনিন সমাজতন্ত্রের পথ থেকে সরে এসে এক তিন অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করেন যা 'NEP' বা 'নতুন অর্থনৈতিক নীতি' নামে পরিচিত। এই অর্থনীতিতে কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যের ব্যাপারে নতুন কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
● নীতি সমুহ :-
(i) কৃষকদের উদ্বৃত্ত ফসল কেড়ে নেওয়া হবে না। তারা ওই ফসল ন্যায্যমূল্যে বাজারে বিক্রি করতে পারবে।
(ii) রাষ্ট্রের কর্তৃত্বাধীন জমিতে কৃষি-মালিকানা থাকবে।
(iii) কৃষি ব্যাংক গঠন, কৃষিক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ ইত্যাদি পদক্ষেপ গৃহীত হবে।
(iv) ছোটো ও মাঝারি শিল্পগুলিতে ব্যক্তিমালিকানা বজায় থাকবে।
(v) শিল্পক্ষেত্রগুলিতেও 'রাষ্ট্রীয়করণ নীতি' শিথিল করা হবে।
(vi) শুধুমাত্র বড়ো আকারের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলির নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে থাকবে।
(vii) ৩৮০০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সরকার, বেসরকারি মালিকের হাতে ফিরিয়ে দেবে।
লেনিনের নতুন অর্থনৈতিক নীতির সুফলস্বরূপ রাশিয়ায় রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নতি ঘটে। রাশিয়ার অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে এই নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই নীতির মাধ্যমে লেনিন রুশ বিপ্লবকে সফলতার পথে এগিয়ে নিয়ে যান।
7. এমস টেলিগ্রাম কী?
Ans:- জার্মানির ঐক্যসাধনের জন্য বিসমার্ক ফ্রান্সের সঙ্গে যুদ্ধের সুযোগ খুঁজছিলেন। ফরাসি সম্রাটের দূত কাউন্ট বেনেদিতি এমস শহরে বিশ্রামরত প্রাশিয়ার সম্রাট প্রথম উইলিয়মের কাছে আসেন। ফরাসি দূত প্রাশিয়ার রাজবংশের কাউকে স্পেনের সিংহাসনে না-বসানোর জন্য প্রতিশ্রুতি চাইলেও প্রাশিয়ার সম্রাট ভদ্রভাবেই তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি এই সাক্ষাৎকারের বিবরণ টেলিগ্রাম করে বিসমার্ককে জানান (১৮৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৩ জুলাই)। এটিই 'এমস টেলিগ্রাম' নামে খ্যাত।
বিসমার্ক এই টেলিগ্রামের কিছু শব্দ বাদ দিয়ে এমনভাবে সংবাদপত্রে প্রকাশ করেন যাতে মনে হয় ফরাসি দূত প্রাশিয়ার রাজার কাছে অপমানিত হয়েছেন। ফরাসিরা এই ঘটনাকে 'জাতীয় অপমান' বলে মনে করে এবং এর প্রতিশোধ নিতে উঠে পড়ে লাগে। এর ফলশ্রুতিতে মাত্র দু-দিন পরে ১৫ জুলাই ফ্রান্স প্রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিসমার্ক মন্তব্য করেন-'লাল কাপড় দেখে ফরাসি ষাঁড় ক্ষেপে গেছে'।
8. আমেরিকা কেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে?
Ans:- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় (১৯৩৯-৪৫ খ্রি.) আমেরিকা প্রথমে নিরপেক্ষতা নীতি গ্রহণ করলেও পরে যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ে।
1. নিরপেক্ষতা নীতি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রপক্ষের প্রতি আমেরিকার সমর্থন থাকলেও যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথম প্রায় ২ বছর আমেরিকা নিরপেক্ষতা নীতি নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। এই সময় আমেরিকা মূলত মিত্রপক্ষীয় রাষ্ট্রগুলির কাছে অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করে।
2. সামরিক তৎপরতা: ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি থেকে জার্মান আক্রমণে মিত্রপক্ষীয় দেশগুলি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং ভবিষ্যতে অক্ষশক্তির দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এর ফলে আতঙ্কগ্রস্ত আমেরিকা সামরিক তৎপরতা শুরু করে।
3. অঘোষিত যুদ্ধ: আমেরিকা মিত্রপক্ষকে অস্ত্র সাহায্য করলে ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের শেষদিকে আমেরিকা ও অক্ষশক্তির মধ্যে অঘোষিত যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। জার্মান সাবমেরিনগুলি ক্রমাগত মার্কিন জাহাজগুলিতে আক্রমণ চালাতে থাকে, আবার আমেরিকাও পালটা জার্মান সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজগুলিকে 'দেখামাত্র গুলি' করার নির্দেশ দেয়।
4. পার্ল হারবারের ঘটনা: অক্ষশক্তিভুক্ত জাপান ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ৭ ডিসেম্বর হঠাৎ হাওয়াই দ্বীপে মার্কিন নৌঘাঁটি পার্ল হারবার-এ বোমা বর্ষণ করে ঘাঁটিটি ধ্বংস করে দেয় এবং পরদিন (৮ ডিসেম্বর) জাপান আমেরিকা ও মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ফলে আমেরিকা তার বিপুল শক্তি নিয়ে সরাসরি অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়।
9. স্পেনে গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপট আলোচনা করো।
Or,স্পেনে গৃহযুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মহড়া বলা হয় কেন?
Ans:- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে স্পেনে চরম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়। এই অবস্থায় সামরিক শাসক প্রাইমো-ডি-রিভেরা (১৯২৩-৩০ খ্রি.) দেশে একনায়কতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
● স্পেনের গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত:-
1. পপুলার ফ্রন্ট গঠন: স্পেনে ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে পপুলার ফ্রন্ট নামে জোট সরকার গঠিত হয়। এই সরকারের বিরুদ্ধে দক্ষিণপন্থীরা দেশের নানা স্থানে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধায়।
2. সামরিক বিভাগের ক্ষোভ: বিশৃঙ্খলার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বেশ কিছু সামরিক কর্মচারীকে বরখাস্ত, বদলি বা অবসর গ্রহণে বাধ্য করে। জেনারেল ফ্রাঙ্কোকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পাঠানো হলে সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক বিভাগে প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
3. বিদ্রোহ: দক্ষিণপন্থী বিভিন্ন দল, জমিদার, বুর্জোয়া, যাজকরা ক্ষুব্ধ সামরিক বাহিনীকে সমর্থন করে। স্পেনীয় সেনাদল ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এই বিদ্রোহে নেতৃত্বে দিতে জেনারেল ফ্রাঙ্কো মরক্কোয় উপস্থিত হন।
4. গৃহযুদ্ধ: স্পেন সরকারের বিরুদ্ধে উক্ত বিদ্রোহে প্রজাতন্ত্রী, সমাজতন্ত্রী ও কমিউনিস্টরা সরকার পক্ষকে সমর্থন করে। অন্যদিকে দক্ষিণপন্থী দল, শিল্পপতি, ভূস্বামী ও যাজকরা জেনারেল ফ্র্যাঙ্কোকে সমর্থন করে। ফলে স্পেনে উভয় পক্ষের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।
স্পেনের গৃহযুদ্ধে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ নিহত এবং দেশছাড়া হয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় ঐতিহাসিক ল্যাংসাম এই গৃহযুদ্ধকে 'ক্ষুদ্র বিশ্বযুদ্ধ' বলে অভিহিত করেছেন।একে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মহড়া বলা হয় ।
10. নেপোলিয়ন কেন রাশিয়া আক্রমণ করেছিলেন?
Answer:- টিলসিটের সন্ধির (১৮০৭ খ্রি.) দ্বারা ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠলেও এই সম্পর্ক শীঘ্রই ভেঙে যায়। ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন রাশিয়া আক্রমণ (১৮১২ খ্রি.) করেন।
● নেপোলিয়ন কর্তৃক রাশিয়া আক্রমণের কারণ:- নেপোলিয়ন কর্তৃক রাশিয়া আক্রমণের প্রধান কারণগুলি ছিল-
1. টিলসিটের সন্ধির ত্রুটি: টিলসিটের সন্ধিতে নেপোলিয়ন তুরস্ক ও সুইডেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও তিনি সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন। ফলে রুশ জার ক্ষুদ্ধ হন।
2. ওল্ডেনবার্গ দখল: মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা মানতে অস্বীকার করায় নেপোলিয়ন রুশ জারের ভগ্নিপতি ওল্ডেনবার্গের ডিউকের রাজ্যটি দখল করে নেন। ফলে জার অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন।
3. ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার ঘনিষ্ঠতা: নেপোলিয়ন অস্ট্রিয়ার হ্যাপ্সবার্গ বংশীয় রাজকন্যা মেরি লুইসা-কে বিবাহ করলে রুশ জার আতঙ্কিত হন যে, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়া মিলিত হয়ে রাশিয়ার ক্ষতি করবে।
4. মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা: রাশিয়া প্রথমে নেপোলিয়নের মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও ১৮১০ খ্রিস্টাব্দে এই ব্যবস্থা মানতে অস্বীকার করে। ফলে রাশিয়ার ওপর নেপোলিয়ন ক্ষুদ্ধ হন।
11. ইটালিতে মুসোলিনির নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট দলের ক্ষমতা দখলের প্রেক্ষাপট আলোচনা করো।
Answer:- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর দেশের সংকটজনক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মুসোলিনির নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট দল ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ইটালির শাসনক্ষমতা দখল করে।
1. ইটালির দুর্দশা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইটালিতে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক দুর্দশা, শ্রমিক ধর্মঘট, দাঙ্গা, লুঠতরাজ প্রভৃতি দেশকে এক চরম দুর্দশার দিকে ঠেলে দেয়।
2. মুসোলিনির প্রচার: মুসোলিনি প্রচার করেন যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইটালি মিত্রপক্ষের হয়ে যুদ্ধ করা সত্ত্বেও যুদ্ধের পর ভার্সাই সন্ধিতে ইটালিকে তার প্রাপ্য স্থানগুলি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাঁর প্রচার ইটালির সেনা-অফিসার ও বেকার যুবকদের উদ্দীপ্ত করে।
3. ফ্যাসিস্ট দল গঠন: মুসোলিনি ইটালির মিলান শহরে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে (২৩ মার্চ) বেকার সৈনিক ও দেশপ্রেমিকদের এক সমাবেশে 'ফ্যাসিস্ট' দল প্রতিষ্ঠা করেন।
4. দলের সংগঠন:- ফ্যাসিস্ট দল শীঘ্রই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য শাখা গড়ে তোলে। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে এই দলের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষে পৌঁছায়। মুসোলিনি বেকার সৈনিক ও যুবকদের নিয়ে 'ব্ল্যাক শার্টস' নামে একটি আধা-স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তোলেন।
5. ক্ষমতা দখল: মুসোলিনির রোম অভিযানের ফলে রোমের মন্ত্রীসভা পদত্যাগ করে। রাজা তৃতীয় ভিক্টর ইমান্যুয়েল তাঁকে মন্ত্রীসভা গঠনের আহ্বান জানালে তাঁর নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট দল ইটালির ক্ষমতা দখল করে (৩০ অক্টোবর, ১৯২২ খ্রি.)।
12. ইঙ্গ-ফরাসি তোষণ নীতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য কতটা দায়ী ছিল?
Ans:- ইঙ্গ-ফরাসি তোষণ নীতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল, কারণ এই নীতির কারণে জার্মানির আগ্রাসন বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে চেকোস্লোভাকিয়ার মতো দেশগুলোর ওপর। এটি হিটলারকে আরও ক্ষমতাশালী হতে এবং তার সাম্রাজ্যবাদী নীতি অনুসরণ করতে উৎসাহিত করেছিল, যা অবশেষে যুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়।
1. হিটলারের আগ্রাসন বৃদ্ধি: তোষণ নীতির কারণে জার্মানি তাদের আগ্রাসী নীতি বজায় রাখে, যা তাদের আরও ক্ষমতাশালী করে তোলে।
2. মিউনিখ চুক্তি: এই চুক্তির মাধ্যমে জার্মানিকে চেকোস্লোভাকিয়ার কিছু অংশ দেওয়া হয়েছিল, যা তাদের আরও সাম্রাজ্যবাদী হতে উৎসাহিত করে।
3. অন্যান্য দেশের দুর্বলতা: এই নীতি অন্যান্য দেশগুলোকে জার্মানির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে নিরুৎসাহিত করে, যা যুদ্ধকে আরও সহজ করে তোলে।
যুদ্ধের সূচনা: তোষণ নীতি শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করে।
13.দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির পরাজয়ের কারণ লেখ।
Ans:- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম দিকে চমকপ্রদ সাফল্য পেলেও শেষ পর্যন্ত অক্ষশক্তি জোট মিত্রশক্তি জোটের কাছে পরাজিত হয়েছিল। অক্ষশক্তির পরাজয়ের পেছনে নানা কারণ ছিল।
● অক্ষশক্তির পরাজয়ের কারণ:-
1. জনসমর্থনের অভাব: অক্ষশক্তির কর্ণধারেরা নিজ নিজ দেশেই জনপ্রিয় ছিলেন না। যুদ্ধজনিত কারণে অর্থসম্পদ ও মানব সম্পদের অপূরনীয় ক্ষতি দেশবাসী মেনে নিতে পারেননি। জার্মানি ও ইটালিতে নাৎসিবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
2. জনমত আদায়ে ব্যর্থতা: অক্ষশক্তির ক্ষুব্ধ অভিযানের পেছনে ছিল আগ্রাসী মনোভাব। আর মিত্রশক্তির লক্ষ্য ছিল বিশ্বে গণতন্ত্র, শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা। তাই অক্ষশক্তির পররাজ্য গ্রাস নীতির প্রতি। বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষের সমর্থন ছিল না। বিশ্ব সহানুভূতি আদায়ে ব্যর্থতা অক্ষশক্তির একটি বড়ো দুর্বলতা ছিল।
3. আমেরিকার যোগদান: বিশ্বযুদ্ধের প্রথম দিকে আমেরিকা যুদ্ধে যোগ না দিলেও নানা ভাবে মিত্র জোটকে সাহায্য করে আসছিল। পার্ল হারবার সংক্রান্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে আমেরিকা অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে এবং মিত্রপক্ষের পক্ষে যোগ দিলে এই জোটের জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং অক্ষশক্তি পিছু হঠতে থাকে।
4. অক্ষশক্তির দুর্বলতা: যুদ্ধের শুরুতেই অক্ষশক্তির দুর্বলতা ধরা পড়ে। অক্ষশক্তি জোটের মধ্যে ইটালি ছিল সবচেয়ে দুর্বল। তাই ইটালি জার্মানিকে সহযোগিতার বদলে জার্মানির কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তাই মিত্রশক্তির সম্মিলিত লোকবল ও অর্থবলের কাছে জার্মানির একক উদ্যম ও অর্থবল খুবই নগণ্য ছিল।
14.ক্রিমিয়ার যুদ্ধ কী ?
Ans:- ক্রিমিয়ার যুদ্ধ ছিল ১৮৫৪-১৮৫৬ সালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্রিটেন, ফ্রান্স, তুরস্ক এবং সার্ডিনিয়ার একটি জোটের মধ্যে সংঘটিত একটি যুদ্ধ, যা মূলত অটোমান সাম্রাজ্যের দুর্বলতা, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পবিত্র স্থানগুলির সুরক্ষার অধিকার নিয়ে রাশিয়ার দাবি জানানোর ফলে সৃষ্টি হয়।
● যুদ্ধের কারণ:-
1. ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব: রাশিয়া অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে থাকা খ্রিস্টানদের রক্ষা করার অধিকার দাবি করে, যা অটোমানদের জন্য একটি হুমকি ছিল এবং রাশিয়াকে আরও বেশি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিত।
2. অটোমান সাম্রাজ্যের দুর্বলতা: অটোমান সাম্রাজ্যের সামরিক ও প্রশাসনিক দুর্বলতা রাশিয়াকে তাদের ভূমি সম্প্রসারণের একটি সুযোগ করে দেয়।
3. ইউরোপীয় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা: ব্রিটেন ও ফ্রান্স রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান শক্তি বৃদ্ধিতে শঙ্কিত ছিল এবং রাশিয়ার আগ্রাসন রোধ করতে চেয়েছিল, যার ফলে তারা অটোমানদের পক্ষ নেয়।
● যুদ্ধের ফলাফল:-
এই যুদ্ধে প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ মারা যায় এবং জনগণের দুর্ভোগ বেড়ে যায়।এই যুদ্ধে মিনি ও এনফিল্ডের মতো দ্রুত-লোডিং রাইফেল ব্যবহার করা হয়। তবে ব্রিটিশদের জন্য, এই যুদ্ধ তাদের সামরিক ও যৌক্তিক অক্ষমতার একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় ।
No comments:
Post a Comment